Templates by BIGtheme NET

ধামরাইয়ে দরপত্র ছাড়াই স্কুল ঘর বিক্রি: অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

মো: ওয়াসিম হোসেন, স্টাফ রি‌পোর্টার:
ঢাকার ধামরাইয়ের নান্নার ইউনিয়নের ৮১ নং নান্নার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন স্কুলের টিন দরপত্র ছাড়া বিক্রির ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নান্নার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তায় এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকারী স্কুলের জিনিসপত্র এই ভাবে নিজেরদের ইচ্ছে মত বিক্রি করে সেই টাকা শিক্ষক ও কমিটির লোকজন ভাগবাটোয়ারা করে নিবে এটা মেনে নেয়া যায় না। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হইয়ে যদি স্কুলের জিনিসপত্র বিক্রি করে সেই টাকা ভাগবাটোয়ারা করে তা হলে সেই শিক্ষক স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কি শিক্ষা দিবে। অবিলম্বে এই দূর্নীতি করা প্রধান শিক্ষককে প্রত্যাহার ও কমিটি বিলুপ্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।
মানববন্ধন শেষে কয়েকশত লোক নান্নার বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে।
নান্নার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল হক মোল্লার সভাপতিত্বে মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নান্নার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, নান্নার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ও জামাল হোসেন,ছাত্রলীগ নেতা নিয়ামত মোল্লা,আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা আরো বলেন, নান্নার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহসভাপতি ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ ফেরাজীর যোগসাজশে স্কুলের টিন বিক্রি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকার ধামরাইয়ে ৮১ নং নান্নার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন পরিত্যক্ত টিনের ঘর টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের যোগসাজশে বিক্রি করার অভিযোগ উঠে।
উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের ৮১নং নান্নার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন তৈরির কারণে পুরাতন টিনের ঘর গোপনে টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করে দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে কার কাছে স্কুলের মালামাল বিক্রি করা হয়েছে সে বিষয়ে কেউ মুখ খোলেননি।
২০১৯ সালে সাবেক ইউএনও মো. সামিউল হকের সময়ে সঠিক দাম যাচাই বাছাই না করে ২২ হাজার টাকায় টেন্ডার হয়। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় যারা জামানত জমা দিয়েছিলেন তারা দাম না হেকে জামানতের টাকা উঠিয়ে নেন। তখন পরবর্তীতে আবারও টেন্ডার হওয়ার কথা ছিল কিন্তু করোনার কারণে টেন্ডার হয়নি। এই সুযোগে গত শনিবার লোকজনের অগোচরে গোপনে টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির লোকজন স্কুলের প্রায় সব টিন বিক্রি করে কয়েকটি ভাঙ্গা টিন রেখে দিয়েছে স্কুল কমিটি। কিন্তু বড় ডালাই ভ্যানে করে টিন নেয়ার সময় মানুষের চোখে ধরা পড়ে। কি করে সরকারি স্কুলের মালামাল বিক্রি করলো স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। মালামাল ক্রয় করতে আসা তিনজন লোকের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় গাড়ির চাবি স্কুলের পাশে বাজারের এক চায়ের দোকানে রেখে চলে যায় হাসপাতালে।
ওই দিনই বিকেলে যারা স্কুলের মালামাল ক্রয় করেছে তারা এসে মাল টিন নিয়ে যায়। কিন্তু ওজন বেশি হওয়ায় এক ভ্যানে নিতে পারেনি। পরে দুই ভ্যান গাড়িতে ভরে মালামাল নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে স্কুলের সঙ্গেই বাজারের ব্যবসায়ী সালাম ফেরাজী বলেন, স্কুলের টিন বিক্রি করা হয়েছে ঘটনাটি সত্য। প্রায় ৮/১০ মণ টিন হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হানিফ ও আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের সামনেই স্কুলের টিন ভ্যান গাড়িতে করে নিয়ে গেছে। স্কুলের মালামাল কি করে বিক্রি হচ্ছে এবং এই টাকা স্কুলের কাজে লাগবে না নিজেদের পকেট ভর্তি হবে।
৮১নং নান্নার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালামকে পুরাতন স্কুল বিক্রি করার কথা বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি প্রধান শিক্ষককে পুরাতন স্কুল ভাঙ্গার মালামাল এক জায়গায় রেখে দিতে বলেছি। কোন ভাবেই সেই মালামাল তিনি বিক্রি করতে পারেন না।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রাথমিক) তাজমুন নাহার বলেন, নান্নার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন টিন সিড বিক্রির জন্য টেন্ডার হয়েছিল। দাম বেশি থাকায় তখন বিক্রি হয়নি। দু’দিন আগেও ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আবার আমাকে বলায় আমি আবেদন দিতে বলি। এতে নতুন টেন্ডার হবে। তার আগেই স্কুলের মালামাল বিক্রি করে দেয়ার বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে আমি ব্যবস্থা নেব। কোন ভাবেই তিনি স্কুলের জিনিস বিক্রি করতে পারেন না। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
পরে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয় আলোচনা সমালোচনা এবং গণমাধ্যমেও উঠে আসে এই দুর্নীতির খবর। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তার প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার (প্রাথমিক) তাজমুন নাহার ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*