নীলফামারীর ডোমারে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

জসিম উদ্দিন নাগর, নীলফামারী:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরের চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে কৃষকেরা পাকা ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষক শফিকুল  জানায় এবছর জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করেছি। বর্তমানে জমিগুলোতে ধান পেঁকে বাতাসে দোলা খাচ্ছে। এখন পুরোদমে ধান কাটা শুরু না হওয়ায় ব্যস্ততা কিছুটা কম রয়েছে, তবে ৭/১০ দিনের মধ্যে যখন পুরোদমে ধানগুলো পেঁকে যাবে তখন ব্যস্ততার সাথে সাথে কথা বলার সময়ও থাকবে না।
উপজেলার ৯নং সোনারায় ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, চলতি মৌসুমে আমনের ফসল ভালো উৎপাদনের স্বপ্ন নিয়েই আমরা জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে জমিতে রোয়া লাগিয়েছি, সময়মত বৃষ্টি হওয়াতে জমিতে তেমন সেচের পানি দিতে হয়নি। বর্তমানে জমিতে থোকায় থোকায় হৃষ্টপুষ্ট ধান দেখে আমরা আনন্দে আত্মহারা। আমাদের কৃষকদের মুখে তাই হাঁসি ফুটেছে। এরই মধ্যে কিছু কিছু জমির ধান কেটে ঘরে তোলাও হয়েছে। আমন ধান আবাদে এবছর হেক্টর প্রতি ৪/৫ মেট্রিক টণ ধান পাওয়ার আসা করছেন তারা।
ধানে কারেন্ট পোকা ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের ইউনিয়নে খুব একটা কারেন্ট পোকা ধরেনি, যতটুকু ধরেছে সেটা বিঘাপ্রতি এক থেকে দেড় শতাংশ হবে। তবে তুলনামূলক ভাবে এবারের আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।

সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, জমিগুলোতে পাঁকা ধানের সোনালী রঙে প্রকৃতিতে নতুন আল্পনা এঁকেছেন। জমিতে একবার নিরানি,সামান্য পরিমান সার ছিটানো এবং পোঁকামাকড় ধবংস করার কীটনাশক ছাড়া ধান উৎপাদনে কৃষকদের তেমন একটা খরচ লাগেনি। জমিগুলোতে ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাঁসি ফুটেছে। কৃষকরা জমি থেকে ধান কাটা, ধান মাথায় বোঝা করে বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অপরদিকে পিছিয়ে নেই কৃষক পরিবারের কৃষানীরা। তারাও ধান মাড়াই করার পর ধান শুকানো ও ধানের চিটা এবং আবর্জনা পরিস্কার করার কাজটি করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমন শ্রেণির (উফশী) আবাদ করা হয়েছে ১৬ হাজার ১শত ৯০ হেক্টর জমিতে এবং হাইব্রিড ধান আবাদ করা হয়েছে ২ হাজার ২শত হেক্টর জমিতে। এছাড়াও স্থানীয় জাতের কালজিরা,নানিয়া এবং কাঠারীভোগ ধান রোপণ করা হয়েছে ৪৫ হেক্টর জমিতে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আমনসহ অন্যান্ন জাতের ধান সর্বমোট ১৮হাজার ৪শত ৩৫ হেক্টর জমিতে রোপন করা হয়েছে। অফিস সুত্রে আরও জানায়, হাইব্রিড ধানের কর্তন প্রায় শেষ, স্থানীয় জাতের ধানগুলো কর্তনে কিছুটা বাকি রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনিসুজ্জামান আনিস বলেন, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের আমন মৌসুমে ১৮ হাজার ৪শত ৩৫ হেক্টর জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। এলাকার কৃষকেরা ভিষণ খুশি, তারা আগামীতে আমাদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে আরও ভালো আবাদ করতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*