উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ

১৭ মার্চ ২০১৮, ঢাকা:
এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর্থ সামাজিক, রাজস্ব, আর্থিক এবং বহি:খাতসহ সব খাতেই এগিয়ে যাচ্ছে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশ। স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
শুধু তাই নয়, প্রবাসী আয়ও বাড়ছে। রপ্তানি আয়েও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি আর বিনিয়োগের খরা কাটেনি।
স্বাধীনতা লাভের ৪৭ বছর পর স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।  ১৬ মার্চ শুক্রবার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিপিডি) এই ঘোষণা সংক্রান্ত চিঠি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করে।
উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিতে মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ তিনটির যেকোনো দু’টি অর্জন করতে পারলেই স্বীকৃতি মেলে। কিন্তু বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই পর্যাপ্ত মানদণ্ড অর্জন করে বিশাল এ স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
ওই তথ্যে দেখা যায়, ৩ বছরে পরপর দুইবার এটা অর্জন করলেই চূড়ান্তভাবে একটা দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আমাদেরকে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং ২০২১ সালে আবারও তা নিশ্চিত করতে হবে একই সূচকগুলো অর্জনের মধ্য দিয়ে।
বাংলাদেশের সঙ্গে লাওস, মিয়ানমারও একই যোগ্যতা অর্জন করেছে। ভুটান, সাও তোমে ও প্রিনসিপে এবং সলোমন দ্বীপপুঞ্জ দ্বিতীয়বারের মতো যোগ্যতা অর্জন করায় তাদের এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি)।
জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক কমিটি গত বৃহস্পতিবার রাতে নিউইয়র্কে বৈঠকে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উত্তরণের সব সূচক প্রথমবারের মতো অর্জন করেছে। শুক্রবার তারা আমাদের জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে এটা নিশ্চিত করে একটা চিঠি হস্তান্তর করে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাউন্সিলের মানদণ্ডে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২শ ৩০ ডলার। বাংলাদেশের সেখানে রয়েছে ১২শ ৭১ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে প্রয়োজন ৬৬ বা এর বেশি। বাংলাদেশ সেখানে অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯। এছাড়া অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে হতে হবে ৩২ বা এর কম। সেখানে বাংলাদেশের আছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

‌মোহাম্মদ সো‌হেল রানা খান
সম্পাদক ও প্রকাশক
প্র‌তি‌দিন বাংলা‌দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*