মিরপুর ফিরে না আসুক প্রেমাদাসায়

৬ মার্চ ২০১৬, তারপর ১৮ মার্চ ২০১৮।  প্রায় দুই বছর পর আরও একটি ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ। ফাইনাল মানেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক দুঃস্বপ্নের মঞ্চ! যে মঞ্চে অনেক স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প আছে। তবে রবিবার ভারতের বিপক্ষে বেদনার এই গল্পগুলো পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে। তাই বাংলাদেশ যে কোনও মূল্যেই চাইবে মিরপুর স্টেডিয়ামে দুই বছর আগে এশিয়া কাপে যেমনটি হয়েছিল, প্রেমাদাসায় যেন তা আবার ফিরে না আসে। এমন স্বপ্ন নিয়ে রবিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ২২ গজের ময়দানী যুদ্ধে নামবে বাংলা‌দেশ ও ভারত দুই দল। 
এই ম্যাচের আগে পরিসংখ্যান ঘেটে বাংলাদেশকে কোনও ভাবেই এগিয়ে রাখা যাবে না। ভারতের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ২০ ওভারের ক্রিকেটে কোনও জয় নেই মুশফিকদের। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত সাতটি টিটোয়েন্টি খেলেছে দুই দল। যার সবগুলোই জিতেছে ভারত। তবে একটি জয় বাংলাদেশের হতে পারতো।
২০১৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের ভুলে ম্যাচটি হেরেছিল বাংলাদেশ। শেষ চার বলে জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন দুই রান। মুশফিক মাহমুদউল্লাহ তখন অহেতুক শট খেলতে গিয়ে আউট হন। শেষ পর্যন্ত চার বলে তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচটা হেরে যায় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের ইতিহাস পাল্টানোর দায়িত্বটা রবিবার অনেকাংশে এই দুই ব্যাটসম্যানকেই নিতে হবে!
একই বছর ঘরের মাঠে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ম্যাচটি একপেশে ভঙ্গিতে ৮ উইকেটে জিতে গিয়েছিল ভারত।
এমনকি লিগ পর্বের দুটি ম্যাচে এই ভারতের কাছেই অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। তারপরও ফাইনালকে ঘিরে স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ। ভারতীয় এই দলটি মূল দল নয়। রান মেশিন বিরাট কোহলি এবং ভারতের অনেক সাফল্যের মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া মহেন্দ্র সিং ধোনি নেই। সময়ের অন্যতম সেরা পেস বোলিং অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া ও পেসার জাসপ্রিত বুমরাহও নিদাহাস ট্রফি খেলছেন না। এমন একটি দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ফাইনাল খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
দ্বিতীয় সারির দল হলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে বদনামের ভাগিদার হতে চায় না ভারত। শনিবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হয়ে আসা দিনেশ কার্তিক এমনটাই জানালেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে জেতারই কথা। কিন্তু হারলে হয়ে যাবে বদনাম। আমি নিশ্চিত এবারো হারলে তাই হবে। দিনেশ কার্তিকের এই কথাগুলোতেই স্পষ্ট ফাইনাল ম্যাচটিতে তারা কোনও ছাড় দিচ্ছেন না।
সম্প্রতি ঘরের মাঠে শেষ সিরিজে বাংলাদেশের ভালো সময় না কাটলেও চলতি টুর্নামেন্টে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে যোগ্য দল হিসেবে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে খেলার টিকিট কেটেছে। কিন্তু বাংলাদেশের এই বিশাল সফলতাকে অনেকেই প্রশংসা করতে পারছেন না! কোনও না কোনওভাবে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। এছাড়া মাঠের বাইরের কিছু ঘটনা টেনে অনেকেই করছেন সমালোচনা।
তবে অতীতের বেদনার কালো ছায়া এবারের সম্ভাবনায় পড়তেই দিতে চান না সাকিব। বাংলাদেশ অধিনায়কের চাওয়া, নির্ভার থেকে ফাইনাল জয়ের চ্যালেঞ্জে নামা।
আমরা চেষ্টা করছি যতটা রিল্যাক্স থাকা যায় এবং খোলা মনে থাকা যায়। টিটোয়েন্টি ম্যাচে ভালো করার জন্য ফ্রি থাকাটা খুবই জরুরি। চাপ হিসেবে চিন্তা করলেই চাপ, আর না চিন্তা করলে চাপ না। আমি নিশ্চিত সবাই অনেক রিল্যাক্স আছে।
এই অবস্থায় শ্রীলঙ্কাকে অতিথি বানিয়ে দেওয়ার পর, বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ভারতের দম্ভ ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার। ভারতের ক্রিকেটকে তছনছ করে টাইগাররা এবার শিরোপার আক্ষেপ দূর করবে এমনটাই প্রত্যাশা টাইগার ভক্তদের।
মাঠের বাইরের বেশ কিছু প্রসঙ্গ মুশফিক মাহমুদউল্লাহদেরও তাতিয়ে দিয়েছে। লিগ পর্বের ম্যাচ শুরুর আগেই গাড়ি পার্কিংয়ের টিকিটে শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে ফাইনালিস্ট হিসিবে ছাপিয়ে বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লঙ্কান বোর্ড। এমনকি ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ নিদাহাস ট্রফির প্রথম ম্যাচ হারার পর স্থানীয় সাংবাদিকরা লঙ্কান বোর্ড প্রধানকে বাংলাদেশকে এই ট্রফিতে আমন্ত্রণ জানানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। মাঠের বাইরের এসব কিছুই টাইগারদের ভালো করতে তাতিয়ে দিচ্ছে। সবারই প্রত্যাশা মিরপুর বেঙ্গালুরুতে হেরে যাওয়া ম্যাচের বদলা প্রেমাদাসাতেই নেবে বাংলাদেশ। রবিবার সন্ধ্যায় ভারতীয়রা টাইগার শিকারে নামবে আর বাংলাদেশিরা ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয় করতে নামবে। লড়াইটা হবে ২২ গজে তাই এখন শুধু অপেক্ষার পালা!

‌মোহাম্মদ সো‌হেল রানা খান
সম্পাদক ও প্রকাশক
প্র‌তি‌দিন বাংলা‌দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*