Templates by BIGtheme NET

সাটু‌রিয়ায় হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের ছাত্র

Spread the love

প্রতি‌দিন বাংলা‌দেশ, সাটু‌রিয়া:
মা‌নিকগ‌ঞ্জের সাটু‌রিয়া উপ‌জেলার পালপাড়া এলাকার অনুপম কুমার পাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সে হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
সরকারি এক হলফনামায় স্বাক্ষর করে অনুপম কুমার পাল এ ঘোষণা দিয়েছে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তার নাম নিয়েছেন মুজতাবা রাহমান তাহমিদ।

হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়‌টি অনুপম কুমার পাল নি‌জে আজ ২০ এ‌প্রিল মঙ্গলবার সকা‌লে নি‌শ্চিত ক‌রে‌ জানায়, ২০১৯ সা‌লে সরকারি হলফনামায় স্বাক্ষর করে হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ কর‌লেও বিষয় অ‌নেকটা গোপন ক‌রে রাখা হ‌য়ে‌ছিল। গত ১৮ এ‌প্রিল ২০২১ র‌বিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের এক‌টি গ্রু‌পে তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়ে জা‌নি‌য়ে এক‌টি পোস্ট দি‌লে তা ব‌্যাপক ভা‌বে জানাজা‌নি হ‌য়ে যায়।
আগে তার নাম অনুপম কুমার পাল থাক‌লেও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সে নাম নিয়েছেন মুজতাবা রাহমান তাহমিদ। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।
তার গ্রা‌মের বা‌ড়ি সাটু‌রিয়া উপ‌জেলার সদর ইউ‌নিয়‌নের পালপাড়া গ্রা‌মে।
তাহমিদ তার সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রে নাম পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন।

হলফনামায় অনুপম কুমার পাল উল্লেখ করেন, আমি স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে অন্যের বিনা প্ররোচণায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। ইসলামের সকল নিয়ম কানুন জেনে বুঝে এক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, তার পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন এবং তার প্রেরিত রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.) এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি ইসলামের সকল বিধিবিধান পালন করছি।
হলফনামায় নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনুপ কুমার পাল এর পরিবর্তে এখন থেকে মুজতবা রাহমান তাহমিদ সংশোধন করে নেব এবং এ নামেই এখন থেকে সব জায়গায় পরিচিত হব।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়ে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের গ্রু‌পে ১৮ এ‌প্রিল তিনি লিখেন, সকল প্রশংসা মহান স্রষ্টার যিনি আমাকে এই সত্য উপলব্ধি করিয়েছেন। সবার ভাগ্যে এই সত্যের সন্ধান জোটে না, তাই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। ২০০৯ সাল থেকে ইসলামের উপর বিশ্বাসের শুরু। এই বিশ্বাসের পেছনে পৃথিবীর কেউ বা কোন কিছু দায়ী না। কেউ আমাকে ওরকম ভাবে ইসলামের দাওয়াত দেয়নি। স্রষ্টার কৃপায় নিজের বুদ্ধি, বিবেক দিয়ে পড়ে, জেনে, বুঝেই এগিয়েছি। পথে অনেক বাধাবিপত্তি ছিল। আল্লাহর সাহায্যে একটার পর একটা পাড়ি দিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

তিনি আরও লিখেন, ২০১০ সালে যখন প্রকাশ করলাম, তখন দেখলাম ভুল সময়ের স্বীকার হয়েছি। তখন সাবালক ছিলাম না, তাই আমার কথার দাম ছিল না। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না দেখে চুপ হয়ে রইলাম। কিন্ত এতটা দীর্ঘ সময় যে কেটে যাবে, ভাবতে পারিনি। যাই হোক এতটা দীর্ঘ সময় ধরে এক চুল পরিমাণ বিশ্বাসের ঘাটতি হয়নি, এক মুহূর্তের জন্যও না। এই বিশ্বাস নিয়েই আজীবন থাকতে চাই।
জানি না সামনের পথটা কেমন কঠিন হবে। এখনও বেকার, আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হইনি পুরোপুরি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সাহায্য করবেন। আর জানি পাশে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী পাব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আজীবন এই বিশ্বাসের উপর অটল থাকতে পারি আর এই বিশ্বাসের প্রচার করতে পারি।
জানি আমার এই বিশ্বাসের অসংখ্য বিরোধিতা করার লোক পাবো আশে পাশে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা সাংবিধানিক ভাবে আমার প্রাপ্য। তাই বিশ্বাসের ব্যাপারে আমার সাথে কথা বলতে পারেন কিন্ত দয়া করে হেনস্থা করবেন না যেখানে সেখানে। (অবশ্য সাভার জাহাঙ্গীরনগর এলাকায় আমাকে আর দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা ও খুবই কম।) কারণ আমার যথেষ্ট আইনী সাপোর্ট রয়েছে।
এটা যেহেতু ধর্মীয় কোন গ্রুপ না, তাই আমার বিশ্বাসের ব্যাখ্যা করলাম না বা সব ঘটনার ব্যাখ্যায় গেলাম না। কারোর ব্যক্তিগত প্রশ্ন বা আলাপ থাকলে ইনবক্সে নক দিবেন প্লিজ।
যারা যারা আমার এইরকম কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ আর রাগ অনুভব করছেন তাদের বলছি যে, আপনারা যেহেতু বিশ্বাস করেন যে, যত মত, তত পথ কিংবা সকল ধর্মই সত্য, ধর্ম ত্যাগ করে অন্য একটা ধর্মেই তো আছি। নাস্তিক তো হয়ে যায়নি। এই রকম ভেবে ব্যাপারটা হালকা ভাবে নিন আপাতত
পরিশেষে সবার মংগল কামনা করে আপাতত কথা শেষ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*